• বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩২ অপরাহ্ন
  • |
  • English Version
  • |

দর্শকের অভাবে একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে নওগাঁর সিনেমা হলগুলো

Reporter Name / ৫৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০১৫

নওগাঁ সংবাদদাতা ঃ সিনেমা হল বিনোদনের বড় উৎস। কিন্তু বর্তমান যুগে মানুষ সিনেমা হলে বসে সিনেমা দেখা বন্ধ করে দিয়েছে। তার বড় কারন ডিস লাইন ও ডিভিডিসহ বিভিন্ন মাধ্যম। যাতে করে মানুষ সহজেই ঘরে বসে সিনেমা দেখতে পারছে। ফলে লোকশানের মুখে সিনেমা হলগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। নওগাঁ জেলায় সর্বমোট ১৩টি সিনেমা হলের মধ্যে ৬টি বন্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। আর যে ৭টি চালু রয়েছে তা আবার যে কোন সময় বন্ধ হবার সম্ভবনা রয়েছে। জেলার ১১টি উপজেলায় ১৩টি সিনেমা হলে কর্মচারীর সংখ্যা ছিল প্রায় হাজার খানেক। ১৩টির মধ্যে নওগাঁ শহরেই ছিল ৩টি সিনেমা হল।

সিনেমা হলগুলো হলো- তাজ, রুবি ও মুক্তি। এর মধ্যে বর্তমানে একমাত্র তাজ সিনেমা হলটি চালু রয়েছে। বাঁকীগুলো অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে উপজেলার সিনেমা হলগুলোর বেশির ভাগই বন্ধ। যেগুলো চালু আছে তাও লোকশান দিয়ে চলছে।
নওগাঁ শহরের তাজ সিনেমা হলের মালিক পরিতোষ সাহা বলেন, বাংলাদেশের সিনেমা এখন মান সম্পন্ন নয়। চলচ্চিত্র নির্মানকারীরা দর্শকদের চাহিদা অনুযায়ী চলচ্চিত্র উপহার দিতে পারছে না বিধায় দর্শক হল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। আর বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোতে প্রতিদিন ২৫/৩০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শন হয়ে থাকে।

অন্যদিকে, পকেটে পকেটে মোবাইল ফোনে সিনেমা এবং পাইরেসির কারনে দেশের সিনেমা হল ব্যবসা কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। এখন হলগুলোতে দর্শক শূন্যের কোঠায় ফলে হল মালিকদের গুনতে হচ্ছে মোটা অংকের লোকসান। এতে শত শত কর্মচারী বেকার হয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে এখনও ভাল চলচিত্রের দর্শক আছে। তারা ভাল ছবি পেলে হলে এসে ছবি দেখতে রাজি। এদিকে বেকার হল শ্রমিকরা এখন কেউ কাপড় ব্যবসা, ফুচকা ও চটপটির দোকান, ফুটপাতে ডিম বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে মালিকরা হলগুলি ভেঙ্গে ফেলে নির্মান করছেন মার্কেটসহ নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
তাজ সিনোমা হলের কর্মচারী রিপন হোসেন জানান, তিনি তাজ সিনেমা হলে প্রায় ১৫ বছর ধরে চাকুরী করছেন। হল বন্ধ থাকলেও তিনি প্রতিদিন হলে আসেন। হলের মায়ার জন্য ঘুরে ফিরে তার আসা। তিনি বলেন সংসারের অভাব অনটন লেগেই আছে। তাও হলে পরে থাকি, যতদিন বাঁচবো হলেই থাকবো। এ বয়সে কোন কিছু করার ইচ্ছাও নেই বলে তিনি জানান। সিনেমা দর্শক আব্দুল খালেক জানান, ভারতীয় চলচ্চিত্রের উৎকর্ষতা সামনে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র টিকে থাকতে পারছে না। তরুন প্রজন্মের পছন্দকে সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলা, হিন্দি ও তামিল চলচ্চিত্র। আধুনিক প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে ছাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ওই ছায়া ছবিগুলিকে। বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের নিকট আকর্ষনীয় ও বিনোদনের খোরাক হয়ে যায় সেই চলচ্চিত্রগুলি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category